আর্টিকেল রাইটিং কয় ধরনের হয়? What are the types of article writing?

আর্টিকেল রাইটিং এখন এক পরিচিত পেশা। ‍আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং পেশার সাথে যুক্ত করতে চান তাহলে আর্টিকেল রাইটিং শিখে সহজেই কাজ পেতে পারেন।আপনি কেন আর্টিকেল রাইটিং কে পেশা হিসেবে বেছে নিবেন? কারণ, লেখালেখির অভ্যাস কমবেশি আমাদের সবারই আছে।এখন আপনি যদি অনলাইনে আর্টিকেল লিখার নিয়মগুলো জেনে নেন, তাহলে লিখতে আপনার বেশি বেগ পেতে হবে না।

আপনি কি আর্টিকেল রাইটিং কী এবং কীভাবে আর্টিকেল রাইটিং শিখে কাজ করা যায়, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন ? যদি না জেনে থাকেন , তবে এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন-

আর্টিকেল রাইটিং কী এবং আর্টিকেল লিখে আয় করার সহজ ৩টি উপায়

আশা করছি আপনি আর্টিকেল রাইটিং এর বেসিক সম্পর্কে এখন জানেন এবং একে পেশা হিসেবে নিতে চাইছেন।

ধরা যাক, আপনি আর্টিকেল লেখা শুরু করলেন, কাজও পেয়ে গেলেন।ক্লায়েন্ট আপনাকে আর্টিকেল লেখার জন্য টপিক দিল। কিন্তু সমস্যাটা হবে তখনই যখন আপনি বুঝবেন না আর্টিকেলকে সাজাবেন কীভাবে বা লিখবেন কীভাবে? কোন টপিকে কিরকমভাবে আর্টিকেল লিখতে হয় সেটা আগে আপনাকে জানতে হবে।কাজ শুরু করার আগে আপনি কি আর্টিকেল লেখার নিয়ম জানতে চান? তবে হ্যাঁ, এই আর্টিকেল আপনারই জন্য!

বুঝতেই পারছেন, আর্টিকেল লিখতে গেলে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে আর্টিকেল কয়ভাবে লেখা যায় । আপনি কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে গুগলে র্সাচ করলে যেমন আর্টিকেল পাবেন, কোনো লেখকের জীবন নিয়ে লেখা আর্টিকেলের মিল খুঁজে পাবেন না। কারণ আর্টিকেল বিভিন্নভাবে লেখা হয়।তাই আর্টিকেল রাইটিং শিখতে গেলে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে , আর্টিকেল কয়ভাবে লেখা যায়।

এই আর্টিকেলে আমি প্রতিটা আর্টিকেলের ধরনের উপর উদাহরণ দিয়েছি। যেন আপনি সহজে বুঝতে পারেন আর্টিকেলগুলোর ধরন সম্পর্কে।আরও ভাল করে বুঝার জন্য প্রতিটা ধরনের আর্টিকেল গুগল থেকে পড়তে চেষ্টা করবেনে।আশা করি, আপনি এই আর্টিকেল থেকে নতুন কিছু শিখতে পারবেন এবং আমার প্রচেষ্টাও সফল হবে।

আর্টিকেল যদিও অনেকভাবে লেখা যায় তবে সেটা র্নিভর করে আপনি কোন বিষয়বস্তুর উপর লিখবেন। সাধারণভাবে আর্টিকেল রাইটিং মূলত দুইভাবে লেখা যায়। ইনফোরমেটিভ আর্টিকেল আর রিভিউ আর্টিকেল। এই টাইপের ভেতরে আবার আরো অনেক রকমভাবে আর্টিকেল লেখা হয়। প্রথমে চলুন শুরু করি ইনফোরমেটিভ আর্টিকেল রাইটিং দিয়ে!

ইনফোরমেটিভ আর্টিকেল কী? (What is Informative Article ? )

ধরুন, ‍আপনি কোনো টপিক সম্পর্কে জানতে চান। হতে পারে সেটা আপনার পড়াশোনা সম্পর্কিত বিষয় বা এমন কোনো টপিক যা আপনাকে দৈনন্দিন জীবনে সাহায্য করবে। যেমন- ক্লাস এসাইনমেন্ট কীভাবে করতে হয়, কেক বানানোর সহজ উপায় কিংবা জ্যোর্তিবিদ্যা কী। ‍আপনি যদি সেই বিষয় গুগলে র্সাচ করেন তাহলে গুগল এই সম্পর্কে যত আর্টিকেল আছে সেগুলো দেখাবে । এইরকম কোনো বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাজানো লেখাগুলোই ইনফোরমেটিভ আর্টিকেল।

ইনফোরমেটিভ বা তথ্যমূলক আর্টিকেল আবার কয়েক ভাবে ভাগ করা যায়। যেমন –

  • ডকুমেন্টারি আর্টিকেল  ( Documentary Article) : ডকুমেন্টারি আর্টিকেল মূলত কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সর্ম্পূণ আর্টিকেল জুড়ে আলোকপাত করে। যেমন – বিল গেটস এর ব্যবসায়িক জীবন , বিশ্বরাজনীতির বতর্মান অবস্থা অথবা কোনো ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান এর সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে তাদের সাফল্য – ব্যাথর্তার পুরো চিত্র । এইসব আর্টিকেল থেকে মূলত আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পকে বিষদভাবে জানতে পারবেন।

  একটি ডকুমেন্টারি আর্টিকেল আপনাকে কোনো টপিকের আগাগোড়া সবটা জানায় । আর্টিকেলগুলো শুরু হয় ঘটনার বা পরিস্থিতির একদম প্রথম থেকে । কীভাবে আলোচ্য বিষয়বস্তুর সষ্টি- তার অতীত ইতিহাস , কীভাবে সবার নজরে আসে, সাফল্য পায় কোন কারণে। বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা বা ব্যবহাযর্তা ।এবং একই সাথে রাইটার জরিপ করে উক্ত সাবজ্কেটির সমালোচনা বা এর প্রশংসাও যোগ করে থাকেন।

  • টিউটোরিয়াল আর্টিকেল ( Tutorial / How to do Article ) :  এই আর্টিকেল থেকে সাধারণত কোনো কিছু তৈরি করতে শিখতে পারবেন। গুগলে আপনি এরকম অনেক আর্টিকল দেখতে পাবেন। ধরুন আপনি কাগজ দিয়ে ফুল বানাতে চান কিংবা রান্না করতে চান কোনো ওয়ের্স্টান খাবার। এক্ষেত্রে আপনি গুগলে র্সাচ করতে পারেন – কাগজের ফুল কীভাবে বানাতে হয় কিংবা এই খাবারটি কীভাবে তৈরি করা হয়। বাংলায় “কীভাবে’ আর ইংরেজিতে  “How to do’  টাইপ যে আর্টিকেলগুলো থাকে সেগুলো হল টিউটোরিয়াল আর্টিকেল।

      WikiHow.com এ গেলে আপনি এরকম অসংখ্য আর্টিকেল দেখতে পাবেন।এই লেখাগুলো ধাপে ধাপে সাজানো থাকে।যেমন – স্টেপ-১ , স্টেপ -২…  এভাবে লেখা হয় এবং প্রতি স্টেপে প্রয়োজনীয ছবি যোগ করা হয়।কাজটি সহজ হোক বা কঠিন, রাইটার কাজটাকে অনেক ভাগে ভাগ করে লিখতে চেষ্টা করে যেন রিডার কাজটিকে সহজভাবে করতে পারে।

  • কম্পারিসন বা তুলনামূলক আর্টিকেল (Comparison Article) :  এই আর্টিকেলগুলো মূলত লেখা হয় তুলনা করে। যেমন- রিয়াল মাদ্রিদ সেরা নাকি বার্সেলোনা ? বিয়েতে পড়ার জন্য জামদানি শাড়ি ভাল না কি কাথান? র্অথাৎ কম্পারিসন আর্টিকেল একটি সাধারণ বিষয়ে দুইটি – চারটি অপশনের উপর বিস্তারিত আলোচনা করে বিভিন্ন দিক থেকে।

  ধরুন আপনি জানতে চান, মানসিক ক্লান্তি দূর করার জন্য চা ভাল না কি কফি? আমি যদি সেইরকম আর্টিকেল লিখি, তাহলে কীভাবে লিখব জানেন? প্রথমে সে চা এবং কফি সম্পর্কে একটা সাধারণ বণর্না করব। পরবর্তী ধাপে চা এবং কফির মাঝে কী কী উপাদান আছে তা জানাব।এবং সেগুলো কীভাবে একজন মানুষের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে তা লেখব। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে কোন সময় চা বা কফি পান করলে বা কোন বয়সে চা-কফি কেমন প্রভাব ফেলে তা আপনাকে জানাব। যেন আপনি বুঝতে পারেন কোনটি আপনার নিয়মিত পান করা উচিত।

  • সেরা ১০-টাইপ বা ( Top 10 Type Article): ইদানীং কালে এই আর্টিকেল রিডারদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর কারণ, একের মাঝেই আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন। পৃথিবীর দশর্নীয় স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে চান? এই আর্টিকেল আপনাকে সাহায্য করবে। কেননা, এই রকম একটি আর্টিকেল থেকেই আপনি পৃথিবীর ১০ টি মনোরম জায়গা চিনে যাবেন! আপনাকে অযথা বারবার খুজে দেখতে হবে না।

এই আর্টিকেলে রাইটার ১-১০ পয়েন্টে ১০ টি একই রকম বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। হতে পারে সেরা ১০টি বই কিংবা আইটি গ্যাজেট কিংবা বিখ্যাত ১০ টি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার । এ লেখাগুলো থেকে বুঝতে পারবেন, বেশিরভাগ মানুষেরা কী পছন্দ করছে, কী দেখতে আগ্রহী।সেই সাথে আপনারও বিষয়গুলো সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা জন্মাবে।এ যেন একের ভেতন অনেক কিছু!

এই তো গেল ইনফোরমেটিভ আর্টিকেলের আদ্যোপান্ত ।তো এখন চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক রিভিউ আর্টিকেল সম্পর্কে !

রিভিউ আর্টিকেল কী ?  (What is Review Article?)

আজকাল অনলাইনে সবচেয়ে দেখা হয় রিভিউ আর্টিকেল।হয়তো ইতোমধ্যে আপনিও বেশ কয়েকটা রিভিউ আর্টিকেল পড়ে ফেলেছেন। কিন্তু এই রিভিউ আর্টিকেল টা কী? নাম থেকেই অবশ্য বোঝা যায় এই আর্টিকেল কোনো কিছু সম্পকে রিভিউ বা পযার্লোচনা করে থাকে। এখানে লেখক আপনাকে সেই নিদির্ষ্ট বিষয় সম্পকে সামগ্রিক ধারণা দেয়। হতে পারে সেটা কোনো বই, খাবার, রেস্টরেন্ট, ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট অথবা পণ্য।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো প্রোডাক্ট রিভিউ আর্টিকেল হয়। প্রোডাক্ট রিভিউ আর্টিকেল লেখা হয় মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ। আমাজনে এই আর্টিকেল লিখে ভাল রকম পারিশ্রমিক ও পেতে পারেন। রিভিউ আর্টিকেল মূলত দুই রকম। সিংগেল রিভিউ আর্টিকেল এবং মার্টিপল রিভিউ আর্টিকেল । চলুন এই আর্টিকেলের ধরন সম্পর্কে ভাল একটা ধারণা নেয়া যাক !

  • সিংগেল রিভিউ আর্টিকেল ( Single Review Article) : সিংগেল রিভিউ আটিকেল শুধুমাত্র একটি নিদির্ষ্ট বিষয় সম্পর্কেই আলোচনা করে।যেমন- আপনি একটি বই পড়ার আগে জানতে চান বইটি কেমন , এর পাঠক জনপ্রিয়তা কিরকম বা লেখক কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বইটি  লিখেছেন। অথবা একটি পণ্য কিনতে চান, হতে পারে সেটা স্যামসাং কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট মডেলের স্মাটর্ফোন। আপনি যদি সেই মডেলের রিভিউ পড়ন তাহলে ওই মডেলের একটা একক ধারণা পাবেন। এর বর্তমান বাজার মূল্য কত? কেমন সার্ভিস দেয় কিংবা এর সুবিধা-অসুবিধাগুলো কী কী?

   আর্টিকেল রাইটার প্রতি টা পয়েন্ট কে একটার পর একটা টাইটলেসহ প্যারা করে লিখেন যেন আপনার ওই প্রোডাক্ট বা বস্তু সম্পর্কে ভাল ধারণা জন্মে। অন্যান্য ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ে সে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয় তার আর্টিকেলে।আজকাল বেশিরভাগ মানুষই রিভিউ আর্টিকেলের উপর ভরসা করে। অনেক সময়ই রিভিউ আর্টিকেল পড়ে সিদ্ধান্ত নেয় পণ্যটি কিনবে কি কিনবে না। তাই রিভিউ আর্টিকেল বেশ জনপ্রিয় এখন।

  • মাল্টিপল রিভিউ আর্টিকেল (Multiple Review Article) : এই আর্টিকেলগুলোতে সাধারণত একই রকম কয়েকটি পণ্যের আলোচনা একত্রে থাকে।ধরুন, আপনি একটি পিসি কিনতে চান। কিন্তু আপনার বাজেটের মধ্যে কোন কম্পিউটার আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে তা বুঝতে পারছেন না। এক্ষেত্রে মাল্টিপল রিভিউ আর্টিকেলগুলোই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

রাইটার এক-এক করে একেটি কোম্পানির বিভিন্ন মডেলের সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরে, যেগুলোর মূল্য মোটামুটি এক।আবার যেমন- বতর্মানে সেরা কয়েকটি স্মাটর্ফোন সর্ম্পকে লেখা রিভিউ আর্টিকেল।এই লেখাগুলোর উদ্দেশ্য থাকে, যেন এ আর্টিকেল পড়ে আপনার বুঝতে সুবিধা হয়, কোনটি আপনি কিনতে পারেন। শুধু যে এভাবেই প্রতিটি আর্টিকেল লেখা হয় তা কিন্তু না।দুটো পণ্যের মাঝে কোনটি কোন ব্যবহারকারীরর জন্য ভাল তা নিয়েও লেখা হয়। তবে সব রিভিউতেই জনমতের প্রভাব থাকে।

এই লেখা থেকে বুঝতে নিশ্চয়ই পেরেছেন আর্টিকেল আসলে কয়ভাবে লেখা যায়।প্রতিটা আর্টিকেলের ধরন বোঝানোর জন্য প্রচুর উদাহরণ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যেন সহজে সবগুলো আর্টিকেল কীভবে লেখা হয়, তা আপনি বুঝতে পারেন। আশা করি, যা আর্টিকেল রাইটিং এ ক্যারিয়ার শুরু করার আগে আপনার আর্টিকেল লেখার জ্ঞান আর ধার‌ণা বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *