আর্টিকেল রাইটিং (Writing) কী এবং আর্টিকেল লিখে আয় করার ৩টি সহজ উপায়

আর্টিকেল রাইটিং

বর্তমানে আর্টিকেল রাইটিং(Writing) জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । যারা ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর সাথে যুক্ত হতে চান তাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে এটিতে। কারণ আর্টিকেল রাইটিং শেখা সহজ এবং শেখা যায় খুব কম সময়ে । একই সাথে ফ্রল্যান্সিং-এর মার্কেটপ্লেসে এর গুরত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আপনি যদি আর্টিকেল রাইটিং কে পেশা হিসেবে নিয়ে অথবা পার্ট টাইম কাজ হিসেবেও করতে চান, আপনার এখানে সফল হবার রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক আর্টিকেল রাইটিং এর খুঁটিনাটি।আমি যখন প্রথম এই কাজের প্রতি আগ্রহী হই, প্রথমদিকে অনেক কিছুই বুঝিনি। এটা বুঝেছিলাম যে, প্রচুর জানা দরকার এই সম্পর্কে, অনেক প্রশ্ন ছিল মাথায় । আস্তে আস্তে আমি যত এটা সম্পর্কে জেনেছি এই সেক্টরে কাজ করার আগ্রহ ততো বেড়েছে।আস্তে আস্তে শিখে যুক্ত হই এই আর্টিকেল রাইটিং এর সাথে ।আপনিও যদি আমার মতো আর্টিকেল রাইটিং এ নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে চান, তাহলে এই লেখাটা আপনার জন্যই।স্বাগতম!

আর্টিকেল রাইটিং কয় ধরনের হয়? What are the types of article writing?

কোনো কাজ শেখার আগে অবশ্যই অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘোরে। আমরা সবাই চাই, সেই সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ কারো মতামত নিতে, যে এই সেক্টরে কাজ করছে। তাহলে কাজ শুরু করার আগে কাজটা সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়।আপনিও যদি সেইরকম মানুষ হোন, বিশাস করুন ! এটা অস্বাভাবিক না এবং আপনি সঠিক পথেই এগোচ্ছেন। এখন আপনি বলতে পারেন, আর্টিকেল লিখা নয়া হয় শিখলন কিন্তু কাজ পাবেন বা করবেন কীভাবে। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাতে আর আপনাকে সাহায্য করার জন্যই এই আমার এই আর্টিকেল !

এই আর্টিকেলে থেকে আপনি জানতে পারবেন ,

  • আর্টিকেল রাইটিং মূলত কী?
  • কন্টেন্ট রাইটিং আর আর্টিকেল রাইটিং এর পার্থক্য কোথায়?
  • আর্টিকেল রাইটিং এর কাজের ক্ষেত্র কোথায়?

নিশ্চয়ই আরও প্রশ্ন আছে । যেমন- আর্টিকেল রাইটিং এর প্রকারভেদগুলো কী কী ? প্রতিটি আর্টিকেল রাইটিং এর আদর্শ টেমপ্লেট কীভাবে তৈরি করতে হয়? আর্টিকেলের প্রতিটি অংশ কীভাবে নিঁখুতভাবে সাজাতে হয়? যেকোনো টপিকে কীভাবে একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লেখা যায়? সেগুলো আপনি আমার পরবর্তী লেখায় দেখতে পাবেন। তো চলুন জেনে নাওয়া যাক আর্টিকেল রাইটিং এর মৌলিক ধারণা এবং এর কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে।

মানুষ মাত্রই সৃজনশীল। আপনি হয়তো সুন্দর করে কথা সাজাতে পারেন, মনের ভাব তুলে ধরতে পারেন। কিংবা খুব গুছিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনাগুলো লিখে ফেলতে পারেন। আর্টিকেল রাইটিং এ এই গুণগুলো অবশ্যই প্রশংসা পায়। কিন্তু সেই সাথে আপনার আর্টিকেল রাইটিং সম্পর্কে আরও অনেক ভাল এবং গভীর ধারণা থাকতে হবে।কিছু ট্যাকনিকাল আর খুঁটিনাটি জ্ঞান না থাকলে আপনি কাজ সহজে পাবেন না । তাই চলুন জেনে নিই, আর্টিকেল রাইটিং এর মূল ভিত্তিগুলো ।

আর্টিকেল রাইটিং মূলত কী? What is Article Writing?

আর্টিকেল রাইটিং বা বাংলায় প্রবন্ধ – আমরা এই টার্মের সাথে খুব একটা অপরিচিত নই।আমাদের সবাইকেই কোনো না কোনো কারণে কমবেশি আর্টিকেল পড়তে হয়। হয় পড়াশোনার জন্য কোনো বিখ্যাত ব্যাক্তির লেখা, না হয় গুগলে কোনো তথ্য পেতে আমরা অনলাইনে আর্টিকেল পড়ে থাকি। কখনো কি একাডেমিক আর্টিকেল আর অনলাইনের আরটিকেলগুলোর লেখা সাজানোর ধরনে পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন?  হ্যা, অনেকটাই ভিন্নতা লক্ষ্য কয়া যায়।একজন লেখক তার লেখা প্রবন্ধের কাঠামো নিজের ইচ্ছামতো সাজাতে পারেন। কখনো তিনি তৃতীয় পুরুষে কাউকে উল্লেখ না করে লিখেন কখনো বা নিজের ধারণাগুলো উত্তম পুরুষে বা নিজেকে উল্লেখ করে লিখেন।

কিন্তু একজন আর্টিকেল রাইটার তা চাইলেই করতে পারেন না। তাকে কিছু নিয়ম এবং ধাপ মেনে প্রতিটি আর্টিকেল লিখে যেতে হয়,যা আপনি পরবর্তীতে এই লেখা থেকে জানতে পারবেন। তাই আপাতত দৃষ্টিতে অনলাইনে আর্টিকেল লেখা সহজ মনে হলেও যদি সেই টিপসগুলো মেনে না চলেন আপনার ক্যারিয়ার আপনাকে হতাশ করতে পারে।

এখন এই আর্টিকেল রাইটিং বলতে মূলত কী বোঝায়? সহজ করে বলতে গেলে বলা যায়, আপনি যদি আর্টিকেল লেখার সবগুলো ধাপ মেনে যেকোনো টপিকের উপর আর্টিকেল লেখতে পারেন আপনি হবেন একজন দক্ষ আর্টিকেল রাইটার। আর সব নিয়ম মেনে যেকোনো বিষয়বস্তু সম্পর্কে লেখা-ই হলো আর্টিকেল রাইটিং।

কন্টেন্ট রাইটিং আর আর্টিকেল রাইটিং এর পার্থক্য কোথায়? What is the difference between content writing and article writing?

যারা এই প্লাটফর্মে নতুন তারা কন্টেন্ট রাইটিং আর আর্টিকেল রাইটিং- এই দুইটা বিষয়কে অনেক ক্ষেত্রেই গুলিয়ে ফেলেন।এই টপিক দুটোর কনসেপ্ট কাছাকছি কিন্তু এক নয়।

প্রথমে চলুন জেনে নিই, কন্টেন্ট কী? কন্টেন্টকে আপনি কনসেপ্ট বা ধারণার সাথেও তুলনা করতে পারেন।যেকোনো বিষয়ই হতে পারে কন্টেন্ট, এর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আসলে বর্তমানে কন্টেন্ট ছাড়া কোনো কাজ ই করা সম্ভব না।এখন কন্টেন্টগুলো দেখতে আসলে কিরকম হয়? আপনার চোখের সামনে প্রতিদিন অনেক রকম কন্টেন্ট আসে।প্রতিটা অডিও, ভিডিও, (গান, সিনেমা, বিজ্ঞানপন,শর্ট ফিল্ম ইত্যাদি) বিভিন্ন ধরনের পোস্ট বা লেখা একেকটা কন্টেন্ট। কিন্তু কন্টেন্টের আসল গুণ হল এর অনন্যতা।মানে একটা কন্টেন্টের সাথে আরেকটা কন্টেন্টের মিল থাকা যাবে না।

এর মানে এই না যে আপনি যে টপিক নিয়ে আগে লেখা হয়েছে বা ভিডিও হয়েছে সেটা নিয়ে আর কোনো কন্টেন্ট বানাতে পারবেন না। অবশ্যই পারবেন কিন্তু আপনার বলার ধরন বা সাজানোর ধরন সবার চেয়ে আলাদা হতে হবে। সেই বিষয় সম্পর্কে ভাল্ভাবে স্টাডি করে নিজের মতো করে বলতে পারাটাই কন্টেন্ট ক্রিয়েটিং। বুঝতেই পারছেন, কন্টেন্ট রাইটিং অনেক বিস্তৃত একটা কাজের ক্ষেত্র।সেই কন্টেন্ট রাইটিং এর একটা শাখা বা অংশ হল আর্টিকেল রাইটিং।তবে গুরত্বের দিক থেকে আর্টিকেল রাইটিং কোনো অংশেই কম নয়। আপনি যদি আউটসোর্সিং এর জগতে পা রাখতে চান আর্টিকেল রাইটিং হতে পারে এখানে থিতু হবার সবচেয়ে সহজ সুযোগ।

আর্টিকেল রাইটিং এর কাজের ক্ষেত্র কোথায়? Where is the field of article writing?

এই কাজে দক্ষ হয়ে আপনি বিভিন্নভাবে কাজ পেতে পারেন বা করতে পারেন।

  • ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে বিড করেঃ  বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করার জন্য আবেদন করতে পারেন (যেমন- ফাইভার ,  ফ্রিল্যান্সার ,  আপওয়ার্ক ইত্যাদি) Fiverr, Freelancer, Upwork। এই সাইটগুলো থেকে আপনি প্রচুর কাজ পাবেন। উন্নত দেশগুলো যেমন ইউকে বা ইউএসএ এর মানুষরা তাদের সময় বাচানোর জন্য বিভিন্ন কাজের জন্য এই সাইটগুলোতে কাজের বিজ্ঞাপন দেন, কাজের ধরন এবং পারশ্রমিক উল্লেখ করে।তাদের বলা হয় বায়ার।আর সেই সাইট থেকে সেলাররা বা কাজ করতে ইচ্ছুক, তারা কাজ বিড করে।বায়ার তখন তার পছন্দমতো সেলার নেন।

   আর্টিকেল রাইটিং শিখে আপনি সেই সাইটগুলোতে কাজের জন্য-

    ১। বিড বা আবেদন করতে পারবেন ।

     ২। সেই সাথে কাজটির জন্য আপনি কি পরিমাণ পারিশ্রমিক চাচ্ছেন

     ৩।কতদিনের মাঝে কাজ শেষ করতে পারবেন তাও উল্লেখ করবেন।

    তারপর, বায়ার আপনার প্রোফাইল চেক করে আপনাকে কাজে নিবে ।আপনাকে শুধু বিড করে যেতে হবে এবং অবশ্যই সময়মতো কাজ শেষ করে দিতে হবে। খুব একটা ঝামেলা নেই, তাই না! এভাবে কাজ করলে ২ থেকে ৪ মাসের মাঝেই ১০০-২০০ ইউএস ডলার আয় করতে পারবেন সহজে। তাই বুঝতেই পারছেন আর্টিকেল রাইটিং ঘরে বসে কাজ  করার এক দারুণ উপায়!

  • ওয়েব সাইটে পেইড গেস্ট রাইটার লিখেঃ  সবাই এখন অনলাইনে লেখা বা রিভিউ পড়তে আগ্রহী।অনেক সময়ই পাঠকেরা কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে গুগলে সার্চ করেন এবং সেখান থেকে পাওয়া সেই সাইটগুলো থেকে আর্টিকেল পড়ে সিদ্ধান্ত নেন সেই প্রোডাক্টি কিনবেন কি না । বা কোনো তথ্য জানতে চাইলেও গুগলেই দেখেন।

    বলতে গেলেই পুরো দুনিয়াই এখন ইন্টারনেটের তথ্যের উপর নির্ভরশীল।তাই সব সাইটেরই লক্ষ্য থাকে ভাল রাইটার দিয়ে  আর্টিকেল লেখানোর। আপনি এই কাজে দক্ষতা বাড়িয়ে বিভিন্ন সাইটে কাজ করে সফলতা পেতে পারেন। পেতে পারেন মাসশেষে একটা ভাল মানের পারিশ্রমিক ! তবে সেটা সাইটের মালিকের সাথে আগেই আলচনা করে ঠিক করে নিতে হবে। এবং সেটা নির্ভর করভে আপনার লেখার মান আর দক্ষতার উপর।

  • নিজের ব্লগসাইটে লিখেঃ By writing on your own blog site: সব আর্টিকেল রাইটারেরই লক্ষ্য থাকে একটা নিজের ব্লগ সাইট তৈরি করা।নিজের জ্ঞান বা চিন্তাভাবনা গুলো সেটা সাইটে শেয়ার করা। হতে পারে সে আর্টিকেল, ভিডিও বা অডিও আকারে প্রকাশ করতে চায়। আপনিও আর্টিকেল রাইটিং এ দক্ষ হয়ে নিজের কাজ এবং ভাবনা বা সৃজনশীল কাজগুলো সেখানে তুলে ধরতে পারেন।আর আপনার সাইট যদি প্রচুর পরিমাণ ভিজিটর পায় তাহলে ত কথাই নেই! সেখানে আপনি গুগল এড রান করিয়ে বা বিভিন্ন লোকাল প্রোডাক্ট প্রমোট করিয়ে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন। যেহেতু ওয়েবসাইট আপনার তাই মাসশেষে সম্পূর্ণ  টাকাটা আপনার পকেটেই আসবে।

আশা করি, এখন আপনি জানেন যে আর্টিকেল রাইটিং কী এবং এ কাজের ক্ষেত্রগুলো কী কী এবং কীভাবে আয় করবেন। কিন্তু অবশ্যই আপনাকে আগে আর্টিকেল লেখা শিখতে হবে সব নিয়ম-কানুন মেনে।আপনি যদি সঠিক উপায়ে আর্টিকেল না শিখেন তাহলে আপনাকে আপনার কাজ প্রথমেই হতাশ করবে। তাই কাজ শুরু করার আগে আরটিকেল রাইটিং লেখার উপায়গুলো জেনে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *