নতুন রাউটার কেনার পর প্রথমেই যে ৫টি কাজ করা উচিৎ

বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট মানুষের মৌলিক অধিকারে পরিণত হয়েছে। প্রথম দিকে ব্যবহারকারীরা  ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন। এরপর প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ কম্পিউটার হয়ে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ইন্টারনেট টিভি, স্মার্টহোম যন্ত্রগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকছে তারহীনভাবেই। আর ওয়াই-ফাই রাউটার নামক যন্ত্রটি এই তারহীন ইন্টারনেটের ধারণাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বাসায় কিংবা অফিসে একটা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের জন্য রাউটার খুবই জরুরী এবং এর জনপ্রিয়তাও অনেক বেশি। রাউটার কেনার আগে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরী। রাউটার কেনার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে তা জানতে এখানে ক্লিক করুন

বর্তমানে যুগে আমরা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছি। আমাদের প্রযুক্তি নির্ভরতা এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে যে আমরা প্রযুক্তি ছাড়া একটা দিনও কল্পনা করতে পারি না। আজকের লেখায় প্রযুক্তির একটি ছোট কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় পণ্য ‘ওয়াই-ফাই রাউটারের’ সেফটি ও সিকিউরিটি নিয়ে আলোচনা করবো।

এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা অনেক জনপ্রিয়। তবে ব্রডব্যান্ডের ক্যাবল নিয়ে কেউই আর চলতে চাই না। সবার পছন্দ ওয়্যারলেস ইন্টারনেট কানেকশন। আর এই ওয়্যারলেস  ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো ‘রাউটার’ ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে সহজেই একের অধিক ডিভাইস ব্যবহার একই সাথে ব্যবহার করা যায়। রাউটার কেনার পর ওয়াইফাই রাউটারের মৌলিক সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত।

নতুন রাউটার কেনার পর করণীয়

রাউটার কেনার পর এটি ব্যবহারের পূর্বে এর কিছু সেটিংস ঠিক করে নিতে হয়। ডিজিটাল ডিভাইসের জন্য সিকিউরিটি কনফিগারেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তো চলুন, জেনে নেয়া যাক আপনার কেনা নতুন রাউটারটি সেফ এবং সিকিউর রাখার  গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপায়। 

১. ‘ফার্মওয়্যার’ রাউটার আপডেট করুন

রাউটারের স্ট্রাকচারের মধ্যে একটি মেমোরি চিপ থাকে। এই মেমোরি চিপের মধ্যে ডিফল্ট হিসেবে ‘ফার্মওয়্যার’ ইন্সটল করা থাকে। এই ‘ফার্মওয়্যারের’ মধ্যেই রাউটারের অপারেটিং ইন্সট্রাকশন দেয়া থাকে। সহজ কথায়, রাউটারটি কীভাবে চলবে না চলবে তা ‘ফার্মওয়্যার’ এর মধ্যে কনফিগার করা থাকে। রাউটারের ‘ফার্মওয়্যার’ তৈরির সময় এর প্রোগ্রামিং স্ট্রাকচার স্ট্যাবল করেই তৈরি করা হয়। তাই সাধারণত ফার্মওয়্যারের ক্ষেত্রে  তেমন আপডেট আসেনা। তারপরও রাউটার কেনার পর ২টি’ কারণে রাউটারের ফার্মওয়্যারের আপগ্রেড ভার্শন বের হয়েছে কিনা চেক করা প্রয়োজন। প্রথমত, রাউটারটি বাজারে আসার কতদিন পরে আপনি কিনেছেন তা য়াপনি জানেন না।ইতিমধ্যে ‘ফার্মওয়্যারের’ নতুন কোন আপডেট এসে থাকতেও পারে।  দ্বিতীয়ত, অপারেটিং সিস্টেমের কারণেও অনেক সময়  ফার্মওয়্যারের সমস্যা হতে পারে। তাই রাউটার কেনার পরে প্রথমেই তা আপডেট করে নিবেন।

২. রাউটারের ডিফল্ট লগিন পরিবর্তন করুন

আপডেট করার পর আপনার কাজ হবে রাউটারের ডিফল্ট লগিন পরিবর্তন করা। রাউটার কোম্পানিগুলো ম্যানুফ্যাকচারার ভেদে প্রাথমিকভাবে একই রকম ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে রাউটার বাজারজাত করে। এই ডিফল্ট ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ডগুলো বের করা তেমন কঠিন কোনো বিষয় নয়। আপনি যখন একটি নতুন রাউটার কিনবেন তখন দেখবেন তার সাথে একটি ইউজার ম্যানুয়েল দিয়ে দিয়েছে।  এই ইউজার ম্যানুয়েল বা নির্দেশিকা ইন্টারনেটে পিডিএফ আকারেও পাওয়া যায়। তাই বুঝতেই পারছেন, গুগল অথবা অন্যন্য সার্চ ইঞ্জিন গুলোর সাহায্যে কত সহজে আপনার রাউটারটির ডিফল্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই, কেনার পর পরই একটু সময় নিয়ে প্রি-ডিফাইন্ড ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ম্যানুয়ালি ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড সেট করুন। 

৩. SSID পরিবর্তন করুন

 একটি রাউটারে একটি মাত্র ইনপুট কানেকশন দিয়ে কয়েকটি আউটপুট কানেকশন সরবরাহ করা যায়। মানে একই রাউটারে অনেকগুলো আউটপুট ডিভাইস একসাথে সংযুক্ত করা যায়। আর রাউটারের সাথে যতগুলি আউটপুট কানেকশন ক্রিয়েট করবেন তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম ডিফাইন করতে হবে। রাউটার থেকে নতুন কানেকশন তৈরি করে যে নাম দেয়া হয় সেটিকে বলা হয় SSID। কিছু কিছু রাউটারে SSID আগে থেকে প্রি-ডিফাইন করা থাকতে পারে।  প্রি-ডিফাইন করা SSID টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই মডেলটি অথবা ম্যানুফ্যাকচারারের নামে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ডিফল্ট লগইন ইনফরমেশন পরিবর্তন করেও থাকেন তবুও যে কেউ  শুধুমাত্র ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে আপনার  SSID এক্সেস করতে পারে। য়ার এই SSID থেকে আপনার রাউটার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা সম্ভব। পারে। তাই, ডিফল্ট SSID পরিবর্তন করে এমন রাখুন যেন সেই নামগুলো সহজে চিহ্নিত করা না যায়। 

৪. ওয়াই-ফাই কানেকশনের পাসওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন 

রাউটারের মতোই ইন্টারনেট অথবা এরকম যে কোন ডিজিটাল তথ্য সংক্রান্ত কাজের জন্য বড় এবং শক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। WPA2 সুবিধাটি ওয়াই-ফাই রাউটারের পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে আপনি সর্বোচ্চ ৬৩টি অক্ষর বিশিষ্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি অন্য মোডের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন তবে সবসময় সহজ পাসওয়ার্ড এড়িয়ে চলুন। তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতির এই যুগে, ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড ভাঙ্গার জন্য বেশ কিছু প্রোগ্রাম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তাই সব সময় সঠিক ভাবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৫. ‘রিমোট এক্সেস’ সুবিধা বন্ধ করে দিন

খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ‘রিমোট এক্সেস’ সুবিধা বন্ধ করে রাখুন। আর যদি খুব বেশি প্রয়োজন হয় শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই সুবিধাটি চালু রাখুন। সাধারণত হোম ইউজারদের জন্য এই সুবিধাটি দরকার হয় না। ‘রিমোট এক্সেস’ ব্যাপারটি হলো, এর মাধ্যমে আপনি আপনার রিমোট এক্সেসড করে রাখা রাউটারটি দূরবর্তী কোন স্থানের কম্পিউটার থেকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। একটি রাউটার কম্পিউটারের নেটওয়ার্কের সাথে সাথে এর ফায়ারওয়ালের সাথেও সম্পর্কিত। তাই যদি কোন ব্যবহারকারী আপনার নেটওয়ার্কে ঢুকতে পরে তাহলে খুব সহজেই সে ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে আপনার রাউটারটি এক্সেস করতে পারবে। 

উপরে আলোচনা করা বিষয়গুলো  করতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। আপনি সামান্য সময় করলে খুব সহজেই কাজগুলো করতে পারবেন। যা আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা অনেকখানি বাড়িয়ে দিবে। তাই নতুন রাউটার কিনে বসে না থেকে আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা জোরদার করুন এক্ষুণি। আশা করি লেখাটি আপনাদের উপকারে আসবে। আর লেখাটি আপনার পরিচিতজনদের মধ্যে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করুন। রাউটার সম্পর্কে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *